মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ইতিহাস

সুন্দরগঞ্জ নামকরণের সঠিক কোন তথ্য না থাকলেও বিভিন্ন জনশ্রুতি বা কিংবদন্তির মাধ্যমে 'সুন্দরগঞ্জ' নামটা পাওয়া যায়। এই জনপদের উপর দিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদ, তিস্তা নদী ও ঘাঘট নদী প্রবাহিত। কথিত আছে নদীর পাশে একটি গঞ্জ বা বাজার অবস্থান করতো এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য এই গঞ্জের নাম ডাক ছিল। গঞ্জের লোকজনের আচার-আচরণ, স্বভাব-চরিত্র এবং চেহারা সুন্দর থাকায় এ জনপদের নাম হয় সুন্দরগঞ্জ।
আর একটি কিংবদন্তি প্রচলিত আছে, তাতে বলা হয়েছে তাজহাটের রাজা গোপাল রায় বাহাদুরের পুত্র ছিল সুন্দর লাল বাহাদুর। তিনি খাজনা আদায়ের জন্য অত্র এলাকায় আসতেন ও মেলার প্রচলন করেন। বলা হয়ে থাকে রাজার পুত্রের নামানুসারে এ এলাকার নাম হয় সুন্দরগঞ্জ।
আর একটি কিংবদন্তির মাধ্যমে জানা যায়, ষাটের দশকের প্রথম দিকে এ এলাকায় (সুন্দরগঞ্জ উপজেলা সদরের উপকন্ঠে) ১৩টি ইঁদারা ছিল এবং এখানকার পাড়ায় সুন্দর সুন্দর মহিলা ছিল। তারা এই ইঁদারাগুলোতে গোসল করতো। এছাড়া প্রতি বছর মহররম মাস উদযাপন উপলক্ষে বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত লোকজনের সমারোহ হতো। উক্ত লোক সমাগম বা লোকের সমারোহকে 'গঞ্জ' এবং সুন্দরী মহিলাদের বাসের সমন্বয়ে এ উপজেলার নামকরণ হয়েছে 'সুন্দরগঞ্জ'।
অপর একটি কিংবদন্তি মতে, এক কালের খরস্রোতা তিস্তার শাখা নদী যা মূল তিস্তার সাথে যুক্ত হয়ে ব্রহ্মপুত্র নদের সাথে মিলিত হয়। পরবর্তীতে নদীর স্রোত বন্ধ হয়ে ছড়া বা বিলে পরিণত হলেও ভাটির দিকে তিস্তার সাথে যার সংযোগ থেকেই যায়। তিস্তার সাথে ব্রহ্মপুত্র নদ এবং এ বিলের সাথে তিস্তা নদীর যোগসূত্র থাকায় অনায়াসে বড় বড় নৌকা বা বজরা এ বিশাল বিলের (মরা নদী) তীরে নোঙর করতো। নৌ যোগাযোগ ভালো থাকায় নৌকা যোগে নানা ধরনের পণ্য আমদানি-রফতানির একটি ঘাঁটি সৃষ্টি হয়। প্রতিনিয়ত এ ঘাটে অনেক নৌকা বা বজরার ভিড় জমায় বলে এর নাম হয় নৌ-ঘাট। এ ঘাটের পাশেই ছিল গোয়াল বা গয়লা সম্প্রদায়ের বসবাস। গয়লারা দুধ, দধি, মিষ্টি ও মন্ডাসহ দুগ্ধজাত নানা রকম খাদ্য দ্রব্য তৈরি করে বিক্রি করতো এ ঘাটে। এ কারণে গোয়ালদের নাম অনুসারে এ ঘাটের নাম করণ হয় গোয়ালের ঘাট। আর এ ঘাটকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরে মাসব্যাপী মেলা বা গঞ্জ বসত। মিষ্টি-মন্ডা ছিল গঞ্জ'র আকর্ষণীয় খাদ্য। এছাড়া ঘাটের অদূরে একটি সুন্দরী পাড়া ছিল। কথিত মতে, সুন্দরী পাড়ায় সুন্দর সুন্দর বধূ থাকায় এবং গোয়ালের ঘাটকে ঘিরে 'মেলা বা গঞ্জ' বসায় এ এলাকার বা মৌজার নাম হয় সুন্দরগঞ্জ।
১৮৭৫ সালে ভাবানিগঞ্জের উত্তরাংশ এবং চিলমারী নিয়ে গঠিত হয় থানা। আর থানা ভবন সুন্দরগঞ্জ মৌজায় স্থাপিত হওয়ায় এর নামকরণ করা হয় সুন্দরগঞ্জ থানা। পরবর্তীতে এ থানাকে ঘিরে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে উঠে। ১৯৮৩ সালে সুন্দরগঞ্জ থানা মান উন্নীত হয়ে উপজেলায় রূপান্তরিত হয়।